
বাংলাদেশ থেকে ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজ: খরচ, ভিসা ও যাত্রার আগে যা জানা জরুরি
আপনি কি ২০২৬ সালে পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ওমরাহ করার স্বপ্ন দেখছেন? বাংলাদেশ থেকে অনেকেই ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজ বেছে নেন। সময়টাও ঠিকঠাক, আর ইবাদত করতেও সুবিধা হয়। কিন্তু প্যাকেজ নেওয়ার আগে অনেক প্রশ্ন থাকে – খরচ কত হবে? ভিসা কীভাবে করবেন? কোন এজেন্সি বিশ্বস্ত? কোন হোটেল ভালো? সবকিছু মাথায় রেখেই আজকের এই ব্লগ পোস্ট।
১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজ কেন জনপ্রিয়?
বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ করতে সাধারণত ৭ থেকে ১৪ দিনের প্যাকেজ পাওয়া যায়। ১৪ দিনের প্যাকেজটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়, কারণ এই সময়টাতে আপনি মক্কা ও মদিনা দুটি পবিত্র শহরেই পর্যাপ্ত সময় কাটাতে পারেন। তাড়াহুড়ো নেই, ইবাদত করার সময় আছে, জিয়ারত করার সময় আছে, আর সবচেয়ে বড় কথা – আপনি ধীরে সুস্থে সবকিছু করতে পারেন।
অনেকেই মনে করেন, বেশি দিন মানেই বেশি খরচ। কিন্তু বিষয়টা তেমন নয়। ১৪ দিনের প্যাকেজের খরচ কিন্তু মোটামুটি সাশ্রয়ী, বিশেষ করে অফ-সিজনে।
হারামাইন টাচ – অক্টোবর,২০২৬ ওমরাহ প্যাকেজ

১৪ দিনের ওমরাহ কাফেলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোস্তফা মঞ্জুর-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে
🕋 ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজসীমিত আসন — আজই যোগাযোগ করুন
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজের খরচ
এখন আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে – খরচ কত?
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজের দাম শুরু হচ্ছে ১,৩৫,০০০ টাকা থেকে। তবে এটা শুরুর দাম। প্যাকেজের মান, হোটেলের ক্যাটাগরি, খাবার অন্তর্ভুক্ত কিনা—এসবের উপর ভিত্তি করে দাম বাড়তে পারে।
বাজেট অনুযায়ী প্যাকেজগুলোকে মোটামুটি কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়:
ইকোনমি প্যাকেজ (১৪ দিন): ১,৩৫,০০০ – ২,২০,০০০ টাকা
স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজ (১৪ দিন): ১,৫০,০০০ – ২,৫০,০০০ টাকা
প্রিমিয়াম প্যাকেজ (১৪ দিন): ২,২০,০০০ – ৩,০০,০০০ টাকা
আরও সাশ্রয়ী প্যাকেজও আছে। কিছু এজেন্সি ১,২৫,০০০ টাকা থেকে ১৪ দিনের প্যাকেজ অফার করছে। তবে দাম দেখেই প্যাকেজ বেছে নেওয়া ঠিক নয়। প্যাকেজের মধ্যে কী কী সুবিধা পাচ্ছেন, সেটাও দেখতে হবে।
সাধারণত প্যাকেজের দামের সঙ্গে যেসব বিষয় জড়িত:
- বিমান টিকেট: সিজনভেদে ৪০,০০০ থেকে ৭০,০০০+ টাকা
- ওমরাহ ভিসা ফি: ১৫,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা
- মক্কার হোটেল: ১৫,০০০ থেকে ৬০,০০০+ টাকা (হোটেলের মান ও মসজিদুল হারাম থেকে দূরত্বের উপর নির্ভর করে)
- মদিনার হোটেল: ৮,০০০ থেকে ৩০,০০০+ টাকা
- ভ্রমণ বীমা ও অন্যান্য খরচ: ৫,০০০ – ১০,০০০ টাকা
বিশেষ করে সিজনের কথা মাথায় রাখবেন। অফ-সিজনে (মে-আগস্ট ও ডিসেম্বর-জানুয়ারি) প্যাকেজের দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকে। পিক সিজনে (মার্চ-এপ্রিল ও অক্টোবর-নভেম্বর) এবং রমজান মাসে দাম অনেক বেড়ে যায়।
কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকে ১৪ দিনের প্যাকেজে?
বেশিরভাগ ওমরাহ প্যাকেজে নিচের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকে:
- ওমরাহ ভিসা প্রক্রিয়াকরণ
- ঢাকা থেকে জেদ্দা বা মদিনা যাওয়ার বিমান টিকেট (সাধারণত ট্রানজিট ফ্লাইট)
- মক্কা ও মদিনায় হোটেল বুকিং
- জিয়ারাত বা ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন (গাইডসহ)
- স্থানীয় পরিবহন
কোনো প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে, কোনোটি থাকে না। খাবারসহ প্যাকেজ সাধারণত ৮,০০০-১০,০০০ টাকা বেশি হয়। আপনি যদি খাবার নিয়ে চিন্তা করতে না চান, তাহলে খাবারসহ প্যাকেজ নিতে পারেন। আর যদি খরচ কমানো priority হয়, তাহলে খাবার ছাড়া প্যাকেজ নিয়ে নিজে খাবারের ব্যবস্থা করতে পারেন—মক্কা-মদিনায় হালাল খাবারের অনেক ভালো ভালো রেস্তোরাঁ আছে।
মনে রাখবেন, প্যাকেজে সাধারণত ওমরাহ করার ব্যক্তিগত খরচ (যেমন: কোরবানি, তাবারুক ইত্যাদি) অন্তর্ভুক্ত থাকে না।
বিশ্বস্ত ওমরাহ এজেন্সি নির্বাচন করবেন যেভাবে
বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ ভিসা সাধারণত অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমেই করা যায়। তাই এজেন্সি নির্বাচনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এজেন্সি বেছে নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখবেন:
- এজেন্সিটির সুনাম কেমন? বন্ধু-আত্মীয়দের অভিজ্ঞতা জেনে নিন।
- তারা কি সৌদি সরকারের অনুমোদিত? নুসুক প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত কিনা দেখুন।
- প্যাকেজের প্রতিটি খাতের খরচ তারা কি স্বচ্ছভাবে জানাচ্ছে? নাকি ঝাপসা কথা বলছে?
- গাইড ও দায়ী (গ্রুপ লিডার) আছে কিনা—এটা অনেক বড় বিষয়, বিশেষ করে প্রথমবার ওমরাহ করতে গেলে।
ভালো এজেন্সি সাধারণত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, হোটেল বুকিং, ফ্লাইট টিকেট—সবকিছুই গুছিয়ে দেয়।
২০২৬ সালে ওমরাহ ভিসার নতুন নিয়ম
২০২৬ সালে ওমরাহ ভিসার নিয়মে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন নুসুক (Nusuk) প্ল্যাটফর্ম বাধ্যতামূলক।
মানে কী দাঁড়ালো? ওমরাহ ভিসার আবেদন করার আগে আপনাকে নুসুক প্ল্যাটফর্মে হোটেল ও পরিবহন—দুটোই বুক করতে হবে। নুসুক কনফার্মেশন ছাড়া ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ভালো দিক হলো, অনুমোদিত এজেন্সিরা এই কাজগুলো করে দেয়। আপনি শুধু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেবেন, বাকিটা তারা দেখবে।
ভিসার মেয়াদ ও থাকার সীমা:
- ভিসা ইস্যুর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে হবে
- সৌদি আরবে সর্বোচ্চ ৯০ দিন থাকা যায়
- ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ১০ দিন আগে দেশে ফিরে আসা বাধ্যতামূলক
গুরুত্বপূর্ণ: ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে কাজ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভঙ্গ করলে বড় জরিমানা, জেল এমনকি ডিপোর্টও হতে পারে।
ওমরাহ ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
ওমরাহ ভিসা করতে নিচের ডকুমেন্টগুলো লাগবে:
১. আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট – ভ্রমণের তারিখ থেকে কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে
২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি – সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে সাম্প্রতিক তোলা
৩. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা জন্ম নিবন্ধন
৪. ওমরাহ ভিসার আবেদনপত্র – এজেন্সি দিয়ে দেবে
৫. ভ্রমণ ব্যবস্থার প্রমাণ – বিমানের টিকেট ও হোটেল রিজার্ভেশন
৬. স্বাস্থ্য সনদ – মেনিনজাইটিস (MenACWY) টিকার সনদ
৭. মাহরামের অনুমতিপত্র (যদি মাহরাম ছাড়া যান)
প্রো টিপ: সব কাগজপত্র আগে থেকেই তৈরি করে রাখুন। ভিসা প্রসেসিং অনেক দ্রুত হবে।
১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজের সম্ভাব্য ভ্রমণসূচি
ঠিক কীভাবে কাটবে ১৪ দিন? একটা নমুনা ভ্রমণসূচি দেখে নেওয়া যাক:
দিন ১: ঢাকা থেকে ফ্লাইট
ঢাকা থেকে জেদ্দা বা মদিনার উদ্দেশ্যে ফ্লাইট। সাধারণত ট্রানজিট ফ্লাইট হয়, তাই যাত্রাপথে ৬-৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
দিন ২: মক্কায় পৌঁছানো ও ইহরাম
সৌদি আরবে পৌঁছে মক্কার হোটেলে চেক-ইন। বিশ্রাম নিয়ে ইহরাম বাঁধার প্রস্তুতি নিন। মসজিদুল হারামে গিয়ে প্রথম তাওয়াফ করুন।
দিন ৩-৭: মক্কায় ইবাদত
মসজিদুল হারামে প্রতিদিনের নামাজ, তাওয়াফ, আর কোরআন তিলাওয়াত। জিয়ারাতের সময় বেরিয়ে মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা ঘুরে দেখতে পারেন।
দিন ৮: মদিনা যাত্রা
মক্কা থেকে বাস বা ট্রেনে মদিনা যাত্রা। মসজিদে নববীতে পৌঁছে নফল নামাজ ও জিয়ারত।
দিন ৯-১২: মদিনায় অবস্থান
মসজিদে নববীতে নামাজ, রওজা মোবারক জিয়ারত, কুরআন তিলাওয়াত। কুবা মসজিদ, উহুদ পাহাড়, জামাতুল বাকি ইত্যাদি ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন।
দিন ১৩: ফেরার প্রস্তুতি
মদিনা থেকে ফ্লাইট ধরার প্রস্তুতি। শেষবারের মতো মসজিদে নববীতে বিদায়ি নামাজ।
দিন ১৪: ঢাকায় ফেরা
ঢাকায় পৌঁছে যাত্রা শেষ।
সৌদি আরবের আবহাওয়া ও উপযুক্ত সময়
ওমরাহ যাত্রার সময় আবহাওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরবে গ্রীষ্মকালে (মে-সেপ্টেম্বর) তাপমাত্রা প্রায় ৪৫-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। তাই গ্রীষ্মে ওমরাহ করতে গেলে প্রচণ্ড গরমের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
সবচেয়ে ভালো সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—যখন আবহাওয়া বেশ আরামদায়ক থাকে। তবে এই সময় পিক সিজন, তাই খরচও বেশি। অফ-সিজনে (মে-আগস্ট) খরচ কম, কিন্তু গরম বেশি।
রমজান মাসে ওমরাহ করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। হাদিসে এসেছে, “রমজানে ওমরাহ করা আমার সাথে হজ করার সমান”। তাই অনেকেই রমজানে ওমরাহ করতে চান। তবে রমজানে প্যাকেজের দাম সবচেয়ে বেশি থাকে।
ওমরাহ যাত্রার আগে করণীয় কিছু টিপস
আর্থিক প্রস্তুতি:
ওমরাহ প্যাকেজের টাকা ছাড়াও হাতে কিছু অতিরিক্ত টাকা রাখবেন—সৌদি রিয়ালে নিয়ে যান। সেখানে কেনাকাটা, তাবারুক, জিয়ারাতের খরচ ইত্যাদির জন্য টাকা লাগবেই।
শারীরিক প্রস্তুতি:
ওমরাহতে প্রচুর হাঁটতে হয়। তাওয়াফ ৭ চক্কর, সাফা-মারওয়ায় সাঈ ৭ বার—এসবের জন্য শারীরিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি। যাওয়ার আগে কিছুদিন নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করুন।
পোশাক ও জুতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ:
আরামদায়ক ও হালকা পোশাক নিয়ে যান। ইহরামের জন্য সাদা কাপড়, আর মসজিদে নামাজের জন্য পরিচ্ছন্ন পোশাক। হাঁটার জন্য ভালো মানের আরামদায়ক জুতা বা স্লিপার নিন। মনে রাখবেন, তাওয়াফ ও সাঈয়ের সময় পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল পরা যায় না, তাই পায়ের যত্ন নিন।
ওমরাহর নিয়ম আগে থেকেই শিখে নিন:
ওমরাহ করার সঠিক পদ্ধতি, দোয়া ও নিয়ম সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নিন। ইহরাম বাঁধার নিয়ম, তাওয়াফের পদ্ধতি, সাফা-মারওয়ায় সাঈ করার নিয়ম, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার নিয়ম—সবকিছু ভালোভাবে জেনে গেলে মনে শান্তি থাকে।
ওমরাহর প্রধান ধাপগুলো:
- ইহরাম: মীকাত বা নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে ইহরাম বাঁধতে হয় এবং নিয়ত করতে হয়
- তাওয়াফ: কাবা শরিফকে ৭ চক্কর প্রদক্ষিণ করা
- সাঈ: সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে ৭ বার চলাচল করা
- মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করা: ওমরাহ শেষে চুল কাটা বা মাথা মুণ্ডন করা
সিম ও ইন্টারনেট:
সৌদি আরবে পৌঁছেই স্থানীয় সিম কিনে নিন। যোগাযোগ ও ইন্টারনেটের জন্য খুব কাজে দেয়।
ওমরাহ ভিসা ফি সম্পর্কে কিছু কথা
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, ওমরাহ ভিসা ফি আসলে কত?
২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ওমরাহ ভিসা ফি ২৪,৯৯৯ টাকা থেকে শুরু। তবে ভিসা ফি, সার্ভিস চার্জ, বিমান ভাড়া, হোটেল ক্যাটাগরি, ভ্রমণের সময়—এই সবকিছু মিলিয়ে মোট খরচ নির্ধারিত হয়। তাই শুধু ভিসা ফি দেখে খরচ ধারণা করা ঠিক হবে না।
সাধারণত ভিসা প্রসেসিং সময় ৩ থেকে ৭ কার্যদিবস। মৌসুমভেদে সময় কম-বেশি হতে পারে।
১৪ দিনের প্যাকেজের উপকারিতা
৭ দিনের প্যাকেজের চেয়ে ১৪ দিনের প্যাকেজের কিছু বিশেষ সুবিধা আছে:
- ইবাদতের সময় বেশি: তাড়াহুড়ো নেই। ভিড় এড়িয়ে শান্তিতে ইবাদত করতে পারেন।
- শারীরিক ক্লান্তি কম: একদিনে সব করতে হয় না। ধীরে সুস্থে সবকিছু করেন।
- মদিনায় বেশি সময়: মদিনায় ৪-৫ দিন থাকার সুযোগ পান। মসজিদে নববীতে বেশি নামাজ পড়তে পারেন, রওজা মোবারক জিয়ারত করতে পারেন।
- জিয়ারাত করার সময়: মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক স্থানগুলো ঘুরে দেখার সময় পাবেন।
- অভ্যস্ত হওয়ার সময়: নতুন পরিবেশ, আবহাওয়া, খাবারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় পাবেন।
শেষ কথা
ওমরাহ সবার জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি একটি অসাধারণ আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নেন। ১৪ দিনের প্যাকেজ সবার জন্য উপযুক্ত না-ও হতে পারে, তবে যারা সময় ও বাজেট দুটোই একটু বেশি নিয়ে ভাবেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি অপশন।
প্যাকেজ বেছে নেওয়ার সময় শুধু দাম নয়, এজেন্সির বিশ্বস্ততা, হোটেলের মান, গাইডের অভিজ্ঞতা—সবকিছু মিলিয়েই সিদ্ধান্ত নিন। আর সবচেয়ে বড় কথা, নিয়তটা যেন খাঁটি হয়। ইবাদতের জন্য মনটাকে প্রস্তুত রাখুন।
আপনার ওমরাহ যাত্রা মোবারক হোক। আল্লাহ সকলের ওমরাহ কবুল করুন, আমিন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজের ন্যূনতম খরচ কত?
উত্তর: ২০২৬ সালে ১৪ দিনের ওমরাহ প্যাকেজের খরচ শুরু হচ্ছে ১,১৫,০০০ টাকা থেকে। প্যাকেজের মান ও সুবিধাভেদে দাম ৩,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশ্ন: ওমরাহ ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত ৩ থেকে ৭ কার্যদিবস সময় লাগে। মৌসুমভেদে সময় কম-বেশি হতে পারে।
প্রশ্ন: ওমরাহ ভিসার জন্য কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন?
উত্তর: কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদি পাসপোর্ট, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র, ভ্রমণ ব্যবস্থার প্রমাণপত্র ও স্বাস্থ্য সনদ প্রয়োজন।
প্রশ্ন: নুসুক প্ল্যাটফর্ম কী?
উত্তর: নুসুক হলো সৌদি সরকারের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ওমরাহ ভিসার জন্য হোটেল ও পরিবহন বুকিং বাধ্যতামূলক।
প্রশ্ন: ওমরাহ প্যাকেজে কী কী অন্তর্ভুক্ত থাকে?
উত্তর: সাধারণত ভিসা প্রক্রিয়াকরণ, বিমান টিকেট, মক্কা-মদিনায় হোটেল বুকিং, জিয়ারাত ও স্থানীয় পরিবহন অন্তর্ভুক্ত থাকে।
প্রশ্ন: ওমরাহ যাত্রার জন্য সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
উত্তর: নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস আবহাওয়ার দিক থেকে ভালো। অফ-সিজনে (মে-আগস্ট) খরচ কম কিন্তু গরম বেশি। রমজানে ওমরাহের ফজিলত বেশি কিন্তু খরচও বেশি।

Leave a Reply