Umrah Agency in Bangladesh

বাংলাদেশ থেকে হজ করতে কত টাকা লাগে ২০২৬: সরকারি ও বেসরকারি প্যাকেজ ও খরচ

বাংলাদেশ থেকে ২০২৬ সালে হজ করতে সর্বনিম্ন খরচ লাগবে ৪,৬৭,১৬৭ টাকা, এটি সরকারি হজ প্যাকেজ-৩ এর মূল্য যার মধ্যে বিমান ভাড়া ১,৫৪,৮৩০ টাকা সহ কোরবানিও অন্তর্ভুক্ত। সরকার ঘোষিত বাকি দুটি প্যাকেজের দাম প্যাকেজ-২ তে ৫,৫৮,৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ-১ এ ৬,৯০,৫৯৭ টাকা।

বেসরকারি দিকে HAAB ঘোষিত তিনটি প্যাকেজ হলো সাশ্রয়ী ৫,১০,০০০ টাকা, জেনারেল ৫,৫০,০০০ টাকা এবং স্পেশাল ৭,৫০,০০০ টাকা। পার্থক্যটা মূলত আবাসনের মানে আর খাবারে। সরকারি প্যাকেজে খাবার খরচ নিজের, আর বেসরকারি প্যাকেজে খাবার প্যাকেজের ভেতরেই ধরা থাকে। হিসাবটা পরিষ্কার।

নিবন্ধন শুরু করতে প্রাথমিকভাবে ৩.৫ লাখ টাকা জমা দিয়ে e-Hajj সিস্টেমে hajj.gov.bd ওয়েবসাইটে অথবা Labbaik অ্যাপে আবেদন করবেন, পরে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে বাকি টাকা পরিশোধ করলেই চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন হবে।

সংক্ষেপে যা জানা দরকার

  • ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন হজ খরচ ৪,৬৭,১৬৭ টাকা – সরকারি প্যাকেজ-৩
  • সরকারি প্যাকেজ-১ ৬,৯০,৫৯৭ টাকা, প্যাকেজ-২ ৫,৫৮,৮৮১ টাকা
  • HAAB বেসরকারি সর্বনিম্ন ৫,১০,০০০ টাকা, জেনারেল ৫,৫০,০০০ টাকা, স্পেশাল ৭,৫০,০০০ টাকা
  • হজের বিমান ভাড়া ১,৫৪,৮৩০ টাকা – ২০২৫ থেকে ১২,৯৯০ টাকা কমেছে
  • প্রাথমিক নিবন্ধন ফি ৩.৫ লাখ টাকা, চূড়ান্ত পরিশোধ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ২০২৬ সালে হজ কোটা ১,২৭,১৯৮ জন, ফ্লাইট শুরু ১৮ এপ্রিল ২০২৬

এই গাইডে যা আছে

  • ২০২৬ সালে হজ করতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগবে
  • সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬: ৩টি প্যাকেজের দাম ও পার্থক্য
  • বেসরকারি HAAB হজ প্যাকেজ ২০২৬ কত টাকা
  • হজের বিমান ভাড়া ও ২০২৫ থেকে কত কমল
  • হজ নিবন্ধন ২০২৬: e-Hajj ও Labbaik app এ কীভাবে করবেন
  • হজ প্যাকেজে কী কী অন্তর্ভুক্ত, কী বাদ
  • হজে যাওয়ার যোগ্যতা, বয়স ও কাগজপত্র
  • আপনার জন্য কোন প্যাকেজ সঠিক – সিদ্ধান্ত নিন

২০২৬ সালে হজ করতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগবে

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সর্বনিম্ন লাগবে ৪,৬৭,১৬৭ টাকা। এটা সরকার ঘোষিত প্যাকেজ-৩ এর দাম। এর চেয়ে কম টাকায় কোনো বৈধ হজ প্যাকেজ নেই।

এই ৪,৬৭,১৬৭ টাকা কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটা জানলে হিসাব পরিষ্কার হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ জুন ২০২৬ সংসদে এর ভাগটা ভেঙে দিয়েছেন।

খাতটাকার পরিমাণ
সৌদি অংশ (মক্কা-মদিনায় বাড়ি ভাড়া, মোয়াল্লেম ফি, পরিবহন, সার্ভিস চার্জ)৩,০০,৭৯৭ টাকা
বাংলাদেশ অংশ (বিমান ভাড়া)১,৫৪,৮৩০ টাকা
অন্যান্য ফি ও ট্যাক্স১১,৫৪০ টাকা
মোট প্যাকেজ-৩৪,৬৭,১৬৭ টাকা

সবচেয়ে স্বস্তির খবর হলো, এই টাকার ভেতরেই কোরবানি ধরা আছে। আলাদা করে কোরবানির জন্য সৌদিতে গিয়ে টাকা দিতে হবে না। প্রধানমন্ত্রীর ওই একই বক্তব্যে এটি নিশ্চিত করা হয়েছে।

অনেকেই ভাবেন বেসরকারি এজেন্সিতে হয়তো আরও কমে যাওয়া যাবে। যাবে না। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো এজেন্সি সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজের চেয়ে কমে প্যাকেজ বিক্রি করতে পারবে না। বরং বেসরকারি সর্বনিম্ন খরচ সরকারি থেকে বেশি।

HAAB ঘোষিত বেসরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ (ইকোনমি/সাশ্রয়ী) হলো ৫,১০,০০০ টাকা। অর্থাৎ সরকারি সর্বনিম্ন থেকে ৪২,৮৩৩ টাকা বেশি। বেসরকারি জেনারেল প্যাকেজ ৫,৫০,০০০ টাকা এবং স্পেশাল প্যাকেজ ৭,৫০,০০০ টাকা।

এখানে একটা বাস্তব হিসাব মাথায় রাখুন। ৪,৬৭,১৬৭ টাকা হলো ঘোষিত প্যাকেজ মূল্য, আপনার মোট বাজেট নয়। সরকারি প্যাকেজে খাবার খরচ ধরা নেই। আপনাকে মক্কা-মদিনায় প্রায় ৪০ দিন নিজের খাবার কিনে খেতে হবে। দৈনিক গড়ে ৬০০-৮০০ টাকা ধরলেও খাবারে ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকা চলে যাবে।

এর সঙ্গে যোগ হবে পাসপোর্ট নবায়ন, মেডিকেল টেস্ট, মেনিনজাইটিস টিকা, এবং ব্যক্তিগত কেনাকাটার খরচ। সব মিলিয়ে সরকারি প্যাকেজ-৩ এ গেলেও হাতে ৫ লাখ থেকে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বাজেট রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। বেসরকারি প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকলেও পাসপোর্ট ও অন্যান্য ব্যক্তিগত খরচ আপনাকে আলাদা বহন করতে হবে।

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬: ৩টি প্যাকেজের দাম ও পার্থক্য

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬ এ মোট তিনটি বিকল্প রাখা হয়েছে। দাম নির্ধারণ হয়েছে আবাসনের দূরত্ব ও সেবার মান অনুযায়ী, বিমান ভাড়া বা অন্য ফি অনুযায়ী নয়। ঘোষণাটি দিয়েছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. এএফএম খালিদ হোসেন, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটা আগে পরিষ্কার করে নিই। তিনটি প্যাকেজেই বিমান ভাড়া সমান — ১,৫৪,৮৩০ টাকা। তাহলে দামের পার্থক্য কোথায়? পার্থক্য মূলত মক্কা ও মদিনার হোটেলের অবস্থান, রুমের মান এবং মিনা-আরাফাহ-মুজদালিফায় পরিবহন ব্যবস্থায়। হারামের যত কাছে হোটেল, প্যাকেজের দাম তত বেশি।

টেবিলে এক নজরে দেখে নিন কোন প্যাকেজে কী পাবেন।

প্যাকেজঘোষিত মূল্যআবাসন ও সুবিধাকার জন্য ভালো
প্যাকেজ-১৬,৯০,৫৯৭ টাকাহারামের সবচেয়ে কাছে, উন্নত মানের হোটেল। হাঁটার দূরত্ব সবচেয়ে কম। লিফট, এসি ও সার্বক্ষণিক সেবা তুলনামূলক ভালো।বয়স্ক, অসুস্থ বা যারা হাঁটতে কষ্ট পান তাদের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক।
প্যাকেজ-২৫,৫৮,৮৮১ টাকামাঝারি দূরত্বে হোটেল। মান ও দূরত্ব দুটোই ব্যালেন্স করা।যারা বাজেট ও আরামের মধ্যে সমন্বয় চান তাদের জন্য।
প্যাকেজ-৩৪,৬৭,১৬৭ টাকাসাশ্রয়ী প্যাকেজ। হোটেল হারাম থেকে তুলনামূলক দূরে, সাধারণত বাসে যাতায়াত করতে হয়।সুস্থ, কম বাজেটে হজ করতে চান এমন হাজিদের জন্য।

এখানে একটা বিষয় ভুল বুঝবেন না। সরকারি প্যাকেজে খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনটি প্যাকেজের কোনোটিতেই দৈনিক খাবারের টাকা ধরা নেই। মক্কা-মদিনায় অবস্থানের প্রায় ৩৮ থেকে ৪২ দিন আপনাকে নিজের খাবার নিজে কিনে খেতে হবে।

অনেকেই ভাবেন প্যাকেজ-৩ মানেই কম সেবা। আসলে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা — যেমন মিনা, আরাফাহ, মুজদালিফা, কোরবানি — তিন প্যাকেজেই একই নিয়মে সম্পন্ন হবে। পার্থক্য শুধু থাকা ও হাঁটার পরিশ্রমে। প্যাকেজ-১ এ হোটেল কাছে হওয়ায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হারামে গিয়ে পড়া সহজ। প্যাকেজ-৩ এ দূরত্ব বেশি বলে অনেক সময় হোটেলের কাছে বা বাসে সময় দিতে হয়। শারীরিক সক্ষমতা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। দাম কম মানেই খারাপ নয়, আবার দাম বেশি মানেই সবার জন্য জরুরি নয়।

বেসরকারি HAAB হজ প্যাকেজ ২০২৬ কত টাকা

বেসরকারি HAAB হজ প্যাকেজ ২০২৬ এ সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৫,১০,০০০ টাকা। এটিই HAAB ঘোষিত সাশ্রয়ী প্যাকেজ। এর বাইরে জেনারেল প্যাকেজ ৫,৫০,০০০ টাকা এবং স্পেশাল প্যাকেজ ৭,৫০,০০০ টাকা।

এই ঘোষণা দেন HAAB মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঢাকার নয়াপল্টনের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে। ওই দিনই তিনটি স্তর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। অনেক পত্রিকায় এর একদিন আগে, ২৯ সেপ্টেম্বর, সাধারণ প্যাকেজ ৫,০৯,১৮৫ টাকা হিসেবে একটি হিসাব প্রকাশিত হয়েছিল। বিভ্রান্ত হবেন না। ওই ৫,০৯,১৮৫ টাকা ছিল ৩২.৮৫ টাকা প্রতি সৌদি রিয়াল বিনিময় হারে করা একটি প্রাথমিক হিসাব। চূড়ান্তভাবে HAAB যে তিনটি প্যাকেজ বাজারে ছাড়ে, সেখানে সর্বনিম্ন ধরা হয় ৫.১০ লাখ।

সরকারি আর বেসরকারিতে সবচেয়ে বড় পার্থক্য এক জায়গায়। খাবার। বেসরকারি প্যাকেজে দৈনিক খাবার খরচ প্যাকেজের ভেতরেই ধরা থাকে। সরকারি প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে সরকারি প্যাকেজ-৩ দেখতে ৪,৬৭,১৬৭ টাকা মনে হলেও সেখানে ৪০ দিনের খাবার আপনাকে আলাদা কিনতে হবে। বেসরকারি সাশ্রয়ী প্যাকেজে ৫,১০,০০০ টাকার ভেতরেই খাবার ধরা, তাই সরাসরি তুলনা করলে ব্যবধানটা যতটা বড় মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়।

আরেকটি শর্ত মাথায় রাখুন। HAAB প্যাকেজের দাম ৩২.৮৫ টাকা/রিয়াল হারে হিসাব করা। সৌদি রিয়ালের দাম বাড়লে চূড়ান্ত মূল্য সমন্বয় হবে। মানে আজ ৫.১০ লাখ বলা হলেও পেমেন্টের সময় রিয়ালের রেট বেড়ে গেলে আপনাকে বাড়তি টাকা দিতে হতে পারে। এজেন্সির সঙ্গে লিখিত চুক্তিতে এই ক্লজটি আছে কিনা দেখে নিন।

এখানে একটি সরকারি বাধ্যবাধকতা আছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ, কোনো এজেন্সি সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ অর্থাৎ ৪,৬৭,১৬৭ টাকার নিচে হজ প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না। কেউ যদি ৪.৫ লাখ বা ৪.৩ লাখে হজ করাবে বলে বিজ্ঞাপন দেয়, সেটি বৈধ নয়। https://umrahpackages.bd/ থেকে যাচাই করে নেওয়া নিরাপদ।

সময় ও থাকার হিসাবেও পার্থক্য আছে। HAAB প্যাকেজে সাধারণত সফরের মেয়াদ ৪০ থেকে ৪২ দিন ধরা হয়। হোটেলের দূরত্ব এজেন্সিভেদে ভিন্ন। কেউ হারাম থেকে ৭০০ মিটারের মধ্যে রাখে, কেউ ১,২০০-১,৫০০ মিটার দূরে। স্পেশাল প্যাকেজে হোটেল সবচেয়ে কাছে থাকে, সাশ্রয়ীতে দূরত্ব বেশি।

সরকারি vs বেসরকারি — দ্রুত তুলনা

বিষয়সরকারি সর্বনিম্ন (প্যাকেজ-৩)বেসরকারি HAAB সাশ্রয়ী
মূল্য ২০২৬৪,৬৭,১৬৭ টাকা৫,১০,০০০ টাকা
খাবারঅন্তর্ভুক্ত নয়অন্তর্ভুক্ত
কোরবানিঅন্তর্ভুক্তএজেন্সিভেদে অন্তর্ভুক্ত, চুক্তি দেখুন
সফরের মেয়াদপ্রায় ৩৮-৪২ দিন৪০-৪২ দিন
বিনিময় হার ঝুঁকিসরকার নির্ধারিত, সমন্বয় সীমিত৩২.৮৫ টাকা/রিয়াল হারে, বাড়লে দাম বাড়বে

কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। চুক্তিতে কী লেখা আছে সেটাই আসল। খাবার, হোটেলের দূরত্ব, রুমে কতজন, কোরবানি অন্তর্ভুক্ত কিনা — এই চারটি লিখিতভাবে নিশ্চিত হয়ে তবেই টাকা জমা দিন।

হজের বিমান ভাড়া ও ২০২৫ থেকে কত কমল

২০২৬ সালে হজের বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫৪,৮৩০ টাকা। ২০২৫ সালে এই ভাড়া ছিল ১,৬৭,৮২০ টাকা, অর্থাৎ এবার সরাসরি ১২,৯৯০ টাকা কমেছে।

এই ভাড়া কমার প্রভাব পড়েছে পুরো প্যাকেজের ওপর। সরকার ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ঘোষিত প্যাকেজে এবং পরবর্তীতে ১৭ জুন ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর সংসদে দেওয়া বক্তব্যে একই হিসাব নিশ্চিত করেছে। ভাড়া কমানো না হলে সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪,৬৭,১৬৭ টাকায় আনা সম্ভব হতো না।

২০২৫ বনাম ২০২৬ — কোথায় কত কমল

খাত২০২৫ সালে২০২৬ সালেকমেছে কত
বিমান ভাড়া১,৬৭,৮২০ টাকা১,৫৪,৮৩০ টাকা১২,৯৯০ টাকা
সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ৪,৭৮,২৪২ টাকা৪,৬৭,১৬৭ টাকা১১,০৭৫ টাকা

লক্ষ্য করুন, বিমান ভাড়া কমেছে ১২,৯৯০ টাকা, কিন্তু প্যাকেজ কমেছে ১১,০৭৫ টাকা। কেন? কারণ প্যাকেজের বাকি অংশ সৌদি আরবের খরচের ওপর নির্ভর করে। সেই অংশ রিয়ালে হিসাব হয়।

সরকারি ব্যাখ্যা বেশ স্পষ্ট। ২০২৫ সালে নির্ধারিত ১,২৭,১৯৮ জনের কোটা পূরণ হয়নি। অনেকেই খরচ বেশি হওয়ায় নিবন্ধন করেননি। তাই ২০২৬ সালে মানুষকে উৎসাহিত করতে ইচ্ছা করেই খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় বিমান ভাড়ায় ভর্তুকি নয়, বরং বিমান সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে।

এ বছর হজ ফ্লাইট যৌথভাবে পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে জেদ্দা ও মদিনা রুটে ডেডিকেটেড হজ ফ্লাইট চলবে। ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আপনার টিকিট কোন সংস্থার হবে, তা নিবন্ধনের পর এজেন্সি বা হজ অফিস থেকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

একটা বিষয় মনে রাখবেন। বিমান ভাড়া ফিক্সড হলেও সৌদি অংশের খরচ ফিক্সড নয়। সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪,৬৭,১৬৭ টাকার মধ্যে সৌদি অংশ ধরা হয়েছে ৩,০০,৭৯৭ টাকা। এর মধ্যে মক্কা-মদিনার হোটেল ভাড়া, মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় পরিবহন ও তাঁবু, মোয়াল্লেম ফি সবই আছে। এই হিসাব ৩২.৮৫ টাকা প্রতি রিয়াল ধরে করা। সৌদিতে রিয়ালের দাম বাড়লে বা হোটেল-পরিবহন চার্জ বাড়লে চূড়ান্ত খরচ সমন্বয় হতে পারে। বেসরকারি প্যাকেজে এই শর্তটি লিখিতভাবে উল্লেখ থাকে।

টিকিট রিফান্ড বা তারিখ পরিবর্তন করতে চাইলে কী হবে? এর কোনো একক সরকারি নীতি নেই। পুরোটাই নির্ভর করে আপনি কোন বিমান সংস্থায় টিকিট পেয়েছেন এবং আপনার এজেন্সির চুক্তিতে কী লেখা আছে তার ওপর। সাধারণত হজ টিকিট নন-রিফান্ডেবল বা হেভি চার্জসহ রিফান্ডেবল হয়। টাকা জমা দেওয়ার আগে এজেন্সির কাছে লিখিতভাবে জেনে নিন — বাতিল করলে কত কাটবে, তারিখ বদলানো যাবে কিনা।

হজ নিবন্ধন ২০২৬: e-Hajj ও Labbaik app এ কীভাবে করবেন

হজ নিবন্ধন ২০২৬ করতে হবে e-Hajj সিস্টেম বা Labbaik app এর মাধ্যমে, প্রাথমিক জমা ৩.৫ লাখ টাকা দিয়ে। এই টাকা দিলেই আপনার কোটা নিশ্চিত হয়, পরে বাকি টাকা কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ থাকে।

ঘরে বসে নিবন্ধনের দুইটি সহজ উপায়

প্রথম উপায় হলো https://umrahpackages.bd/ এর মতো তথ্য যাচাই করে সরাসরি সরকারি পোর্টালে যাওয়া। কম্পিউটারে hajj.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে e-Hajj registration অপশনে NID ও মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রোফাইল তৈরি করুন। দ্বিতীয় উপায় আরও সহজ — প্লে-স্টোর থেকে Labbaik app ডাউনলোড করে একই তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করুন। অ্যাপে ছবি, পাসপোর্ট স্ক্যান কপি আপলোড করলেই প্রাথমিক ফরম তৈরি হয়।

পেমেন্টের জন্য অ্যাপ বা ওয়েবসাইট থেকেই পে-স্লিপ তৈরি হবে। সেটি নিয়ে যেকোনো অনুমোদিত ব্যাংকে গিয়ে ৩,৫০,০০০ টাকা জমা দিন। অনলাইন ব্যাংকিং থাকলে ঘরে বসেই পরিশোধ করা যায়। টাকা জমা হলেই SMS ও অ্যাপে নিবন্ধন সফল দেখাবে।

ব্যাংকে না গিয়ে বিকল্প কোথায় করবেন

অনলাইনে সমস্যা হলে সরকার বিকল্প চারটি পথ খোলা রেখেছে। আপনার নিকটস্থ ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গেলে তারাই ফরম পূরণ করে দেবে। জেলা পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কার্যালয়, ঢাকায় বায়তুল মোকাররমের হজ অফিস এবং আশকোনা হজ ক্যাম্প অফিসেও সরাসরি নিবন্ধন নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে NID, পাসপোর্ট ও ৩.৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার নিয়ে গেলেই চলবে।

মনে রাখবেন, সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী কোনো এজেন্সি সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪,৬৭,১৬৭ টাকার নিচে দাম ঘোষণা করতে পারবে না। তাই কম টাকার প্রলোভনে প্রাইভেট এজেন্সিতে টাকা দেওয়ার আগে HAAB অনুমোদিত তালিকা যাচাই করুন।

টাকা জমা ও সময়সীমার পুরো ক্যালেন্ডার

২০২৬ সালের হজের জন্য সময়সীমা খুব টাইট। একবার মিস করলে কোটা বাতিল হয়ে যাবে।

  • প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৫। এই তারিখের মধ্যে ৩.৫ লাখ টাকা জমা দিতেই হবে।
  • চুক্তি স্বাক্ষর: ৯ নভেম্বর ২০২৫। এই দিনে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে হাজী সংখ্যা চূড়ান্ত করে।
  • চূড়ান্ত টাকা পরিশোধ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। প্রাথমিক ৩.৫ লাখ বাদে প্যাকেজের বাকি টাকা এই তারিখের মধ্যে যেকোনো কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন।
  • বাড়ি ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি: ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
  • হজ ভিসা ২০২৬ ইস্যু শুরু: ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
  • হজ ফ্লাইট শুরু: ১৮ এপ্রিল ২০২৬।
  • হজ প্রত্যাশিত তারিখ: ২৬ মে ২০২৬, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে।

কিস্তি সুবিধা বলতে আলাদা কোনো সুদ বা মাসিক কিস্তি নয়। নিয়মটি সহজ — প্রথমে ৩.৫ লাখ দিয়ে নাম লেখান, এরপর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাকি টাকা একবারে বা ভেঙে ভেঙে জমা দিন। যেমন, আপনি ৪,৬৭,১৬৭ টাকার প্যাকেজ-৩ নিলে প্রথমে ৩.৫ লাখ দিলেন, বাকি ১,১৭,১৬৭ টাকা ডিসেম্বরের মধ্যে পরিশোধ করলেই হবে। টাকা জমার রশিদ ও e-Hajj ট্র্যাকিং নম্বর যত্ন করে রাখুন, ভিসা ও ফ্লাইটের সময় এটিই আপনার প্রমাণ।

হজ প্যাকেজে কী কী অন্তর্ভুক্ত, কী বাদ

এই অংশটাই সবচেয়ে বেশি ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করে। সংক্ষেপে উত্তর — সরকারি তিন প্যাকেজেই কোরবানি, বিমান ভাড়া, আবাসন, মিনা-আরাফা-মুজদালিফার তাঁবু ও পরিবহন অন্তর্ভুক্ত। খাবার অন্তর্ভুক্ত নয়। আর বেসরকারি HAAB প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত বলেই দাম একটু বেশি।

সরকারি প্যাকেজে কী পাচ্ছেন

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬ এর তিনটিতেই কোরবানি অন্তর্ভুক্ত। সর্বনিম্ন ৪,৬৭,১৬৭ টাকার প্যাকেজ-৩ এর ভেতরেই কোরবানি ধরা আছে। আলাদা করে কোরবানির টাকা দিতে হবে না। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই ৪,৬৭,১৬৭ টাকার মধ্যে সৌদি অংশ ৩,০০,৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ অংশে হজের বিমান ভাড়া ১,৫৪,৮৩০ টাকা — সব একসাথেই হিসাব করা।

এছাড়া যা অন্তর্ভুক্ত থাকে: মক্কা ও মদিনায় হোটেল/বাড়ি ভাড়া, জেদ্দা-মক্কা-মদিনা রুটের বাস পরিবহন, মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় তাঁবু ও মোয়াল্লেম ফি, এবং হজ ভিসা ২০২৬ প্রসেসিং। মোটকথা, সৌদি আরবে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা করতে যা যা লাগে, তার ফি প্যাকেজের ভেতরেই।

তবে সরকারি প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত নয়। এটা মাথায় রাখা জরুরি। মক্কা-মদিনায় প্রতিদিনের খাবারের জন্য জনপ্রতি ৪০০-৬০০ টাকা বাজেট ধরুন। ৪০ দিন থাকলে খাবার বাবদ ১৬,০০০ থেকে ২৪,০০০ টাকা অতিরিক্ত লাগতে পারে। হোটেলে রান্নার ব্যবস্থা থাকলেও খাবার আপনাকে কিনে খেতে হবে।

বেসরকারি HAAB প্যাকেজে পার্থক্য কোথায়

বেসরকারি হজ প্যাকেজে খাবার অন্তর্ভুক্ত। এটাই দাম বেশি হওয়ার বড় কারণ। HAAB ঘোষিত সাধারণ প্যাকেজ ৫,০৯,১৮৫ টাকা এবং জেনারেল ৫,৫০,০০০ টাকা বা সাশ্রয়ী ৫,১০,০০০ টাকা — সবগুলোতেই তিন বেলা খাবার ধরা থাকে। তাই সামনে থেকে দেখলে সরকারি সর্বনিম্ন ৪,৬৭,১৬৭ টাকার চেয়ে বেসরকারি প্যাকেজ ৪০-৮০ হাজার টাকা বেশি মনে হলেও, খাবার খরচ যোগ করলে ব্যবধান অনেকটা কমে আসে।

বাকি সুবিধা সরকারি প্যাকেজের মতোই অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ আবাসন, মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় তাঁবু, পরিবহন ও মোয়াল্লেম ফি — দুই ধরনের প্যাকেজেই পাবেন। বেসরকারি এজেন্সি অনেক সময় মক্কায় হারামের কাছাকাছি হোটেল দেওয়ার চেষ্টা করে, সেটাও দামের পার্থক্য তৈরি করে। বিস্তারিত যাচাই করতে https://umrahpackages.bd/ এ প্যাকেজের শর্তগুলো আগেই মিলিয়ে নিন।

যা কোনো প্যাকেজেই ধরা নেই

কিছু খরচ আপনাকে প্যাকেজের বাইরে আলাদা দিতে হবে। এগুলো হলো পাসপোর্ট ফি, মেডিকেল টেস্ট, মেনিনজাইটিস টিকা, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং অতিরিক্ত লাগেজ ফি। এই খরচগুলো ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মতো যোগ হতে পারে, পাসপোর্ট নতুন করতে হলে আরও বেশি।

আরেকটি বিষয় — রুম শেয়ারিং। সাধারণত হোটেলে ৪-৬ জন এক রুমে থাকতে হয়। সরকারি প্যাকেজ-১ (৬,৯০,৫৯৭ টাকা) এ শেয়ারিং কম থাকে, অনেক ক্ষেত্রে ২-৩ জন। প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৩ এ ৪-৬ জনের শেয়ারিংই স্বাভাবিক। বুকিংয়ের আগে এজেন্সি বা হজ অফিস থেকে রুমে কতজন থাকবেন, হারাম থেকে হোটেলের দূরত্ব কত — লিখিতভাবে জেনে নিন।

হজে যাওয়ার যোগ্যতা, বয়স ও কাগজপত্র

হজে যেতে হলে বয়স ১২ বছরের বেশি হতে হবে, শারীরিকভাবে ফিট থাকতে হবে এবং বৈধ কাগজপত্র থাকতে হবে। ১২ বছরের নিচে হলে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে হজের অনুমতি নেই — এটা সৌদি ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ সিদ্ধান্ত।

বয়স নিয়ে নিয়ম কী

১২ বছরের ঊর্ধ্বে যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। তবে বয়স্কদের জন্য বাড়তি শর্ত আছে। ৭০ বা ৮০ বছরের বেশি বয়সী কেউ হজে যেতে চাইলে তার সঙ্গে ৫০ বছরের কম বয়সী একজন সুস্থ সঙ্গী থাকা বাধ্যতামূলক। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর ঘোষণায় এই সঙ্গী-নিয়ম স্পষ্ট করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য একটাই — সুরক্ষা। আরাফা, মুজদালিফা, মিনায় দীর্ঘ সময় হাঁটা, ভিড়, গরম — সব মিলিয়ে শারীরিক চাপ অনেক। বয়স্ক হাজির পাশে একজন কম বয়সী সহযাত্রী থাকলে জরুরি মুহূর্তে সাহায্য মেলে। এয়ারলাইন্স ও মোয়াল্লেমও এই সঙ্গীকে প্রাধান্য দেয়।

আরেকটি কড়া নিয়ম — সংক্রামক রোগে আক্রান্তরা হজে যেতে পারবেন না। যক্ষ্মা, কোভিডের সক্রিয় সংক্রমণ বা অন্য ছোঁয়াচে রোগ থাকলে মেডিকেল বোর্ড ফিট সার্টিফিকেট দেবে না। ফিটনেস ছাড়া e-Hajj রেজিস্ট্রেশন চূড়ান্ত হবে না।

কাগজপত্রের চেকলিস্ট — এক নজরে

কাগজ গুছিয়ে রাখলে নিবন্ধন আটকায় না। নিচের লিস্ট ধরে আগেই তৈরি রাখুন:

  • বৈধ পাসপোর্ট: মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট, হজ ফ্লাইটের তারিখ থেকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে। মেয়াদ কম থাকলে এখনই রিনিউ করুন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): e-Hajj সিস্টেমে NID নম্বর ও মোবাইল নম্বর যাচাই বাধ্যতামূলক। Labbaik app-এও একই তথ্য দিয়েই লগইন।
  • ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে পাসপোর্ট সাইজের সাম্প্রতিক রঙিন ছবি, সৌদি হজ ভিসার মাপ অনুযায়ী।
  • মেডিকেল সনদ: সরকার অনুমোদিত হাসপাতাল বা জেলা সিভিল সার্জন থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট। প্রেসার, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকলে সমস্যা নেই, কিন্তু ডাক্তারের লিখিত ছাড়পত্র লাগবে।
  • টিকা সনদ: মেনিনজাইটিস (Meningococcal) টিকা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী কোভিড টিকার সনদও চাওয়া হতে পারে — টিকা কার্ড সঙ্গে রাখুন।

e-Hajj ও Labbaik-এ কীভাবে যাচাই হয়

e-Hajj রেজিস্ট্রেশনে ঢুকলেই প্রথম ধাপে NID ও মোবাইল নম্বর OTP দিয়ে যাচাই হয়। এরপর পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, অভিভাবকের নাম মেলানো হয়। Labbaik app-এও একই প্রোফাইল — আলাদা করে কাগজ আপলোড করতে হয় না, তবে তথ্যের বানান NID ও পাসপোর্টের সঙ্গে হুবহু মিলতে হবে।

ছোট পরামর্শ। NID-তে নামের বানান ভুল থাকলে বা মোবাইল নম্বর অন্যের নামে হলে আগেই সংশোধন করুন। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার বা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়ে গিয়েও যাচাই করাতে পারবেন। কাগজ ঠিক থাকলে ভিসা ইস্যু শুরু ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ আটকাবে না।

আপনার জন্য কোন প্যাকেজ সঠিক – সিদ্ধান্ত নিন

বাজেট, বয়স আর আরাম — এই তিনটার উপরই আপনার প্যাকেজ নির্ভর করবে। ২০২৬ সালে সরকারি ৩টা আর বেসরকারি ৩টা অপশন আছে, তাই আগেই বুঝে নিলে পরে আফসোস থাকবে না।

বাজেট ৫ লাখের মধ্যে হলে

টাকা গুনে চলতে হলে সরকারি প্যাকেজ-৩ সবচেয়ে বাস্তব সমাধান। দাম ৪,৬৭,১৬৭ টাকা। এর মধ্যে বিমান ভাড়া ১,৫৪,৮৩০ টাকা, সৌদি অংশ ৩,০০,৭৯৭ টাকা আর কোরবানিও অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু মনে রাখবেন, এই প্যাকেজে খাবার খরচ ধরা নেই। মক্কা-মদিনায় ৩৫-৪০ দিন থাকলে খাবার বাবদ আরও ৩০,০০০-৪০,০০০ টাকা আলাদা বাজেট ধরুন। তাহলে মোট ৫ লাখের মধ্যেই হয়ে যাবে।

খাবারসহ নিশ্চিন্ত সেবা চাইলে

বারবার খাবার নিয়ে চিন্তা করতে না চাইলে বেসরকারি প্যাকেজ ভালো। HAAB-এর সাশ্রয়ী প্যাকেজ ৫,১০,০০০ টাকা আর জেনারেল প্যাকেজ ৫,৫০,০০০ টাকা — দুটোতেই খাবার অন্তর্ভুক্ত। সরকারি প্যাকেজ-৩ এর সঙ্গে খাবার যোগ করলে খরচ প্রায় কাছাকাছি চলে আসে, কিন্তু বেসরকারিতে হোটেল-খাবার নিয়ে দৌড়াদৌড়ি কম। যারা ঝামেলামুক্ত হজ চান, তাদের জন্য এই দুটোই ব্যালেন্সড।

বয়স্ক বা প্রথমবার হজে গেলে

বয়স ৬০ পেরিয়েছে বা জীবনে প্রথম হজ — হাঁটাহাঁটি কমাতে চাইলে দূরত্বই আসল। সেক্ষেত্রে সরকারি প্যাকেজ-১ (৬,৯০,৫৯৭ টাকা) বা HAAB স্পেশাল প্যাকেজ ৭,৫০,০০০ টাকা আরামদায়ক হবে। এগুলোতে হারাম শরিফের কাছাকাছি হোটেল দেওয়া হয়, লিফট, রুমে কম মানুষ, গাইড সাপোর্টও ভালো থাকে। ৭০ বছরের বেশি হলে তো ৫০ বছরের কম বয়সী একজন সঙ্গী বাধ্যতামূলক, তাই দুজনের জন্য একসঙ্গে কাছাকাছি হোটেলের প্যাকেজ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

এজেন্সি বাছাইয়ে ভুল করবেন না

সরকারি প্যাকেজের চেয়ে কমে কোনো এজেন্সি হজ করাতে পারবে না — এটা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কড়া নির্দেশ। তাই ৪ লাখে হজ বলে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখলেই সতর্ক হন। বুকিংয়ের আগে দেখে নিন এজেন্সি HAAB অনুমোদিত কিনা এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের hajj.gov.bd তালিকায় নাম আছে কিনা। লাইসেন্স নম্বর, ট্রেড লাইসেন্স আর পূর্বের হাজিদের রিভিউ যাচাই করে নিন।

সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট হলে https://umrahpackages.bd/ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব প্যাকেজ পাশাপাশি তুলনা করে সরাসরি কথা বলুন। আগেভাগে নিবন্ধন করলে মক্কায় কাছের হোটেল, নিচতলার রুম আর ভালো ফ্লাইট টাইম পাওয়া সহজ হয়।

শেষ কথা, সৌদি আরব ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য ১২৭১৯৮ কোটা দিয়েছে। কোটা পূরণ হলেই নিবন্ধন বন্ধ। প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় ১২ অক্টোবর, আর চূড়ান্ত টাকা জমার শেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। তাই দেরি না করে ৩.৫ লাখ টাকা দিয়ে e-Hajj বা Labbaik app-এ প্রাথমিক নিবন্ধন এখনই নিশ্চিত করুন।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

বাংলাদেশ থেকে হজ করতে ২০২৬ সালে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগবে?

২০২৬ সালে বাংলাদেশ থেকে হজ করতে সর্বনিম্ন লাগবে ৪,৬৭,১৬৭ টাকা। এটি সরকারি হজ প্যাকেজ-৩ এর মূল্য, যা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি অংশ ৩,০০,৭৯৭ টাকা এবং বাংলাদেশ অংশের বিমান ভাড়া ১,৫৪,৮৩০ টাকা অন্তর্ভুক্ত। কোরবানিও এই টাকার ভেতরেই ধরা আছে। এর চেয়ে কমে কোনো এজেন্সি প্যাকেজ দিতে পারবে না।

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬ এ ৩টা প্যাকেজের দাম কত?

সরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬ এ তিনটি প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্যাকেজ-১ এর দাম ৬,৯০,৫৯৭ টাকা, প্যাকেজ-২ এর দাম ৫,৫৮,৮৮১ টাকা এবং প্যাকেজ-৩ এর দাম ৪,৬৭,১৬৭ টাকা। ধর্ম উপদেষ্টা ড. এএফএম খালিদ হোসেন ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ এই ঘোষণা দেন। প্যাকেজ ভেদে মক্কা-মদিনায় আবাসনের মান ও সুবিধায় পার্থক্য থাকবে।

বেসরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬ কত টাকা HAAB ঘোষণা করেছে?

বেসরকারি হজ প্যাকেজ ২০২৬ এ HAAB তিনটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ নয়াপল্টনে মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদারের ঘোষণা অনুযায়ী স্পেশাল প্যাকেজ ৭,৫০,০০০ টাকা, জেনারেল প্যাকেজ ৫,৫০,০০০ টাকা এবং সাশ্রয়ী বা ইকোনমি প্যাকেজ ৫,১০,০০০ টাকা। অন্য একটি রিপোর্টে সাধারণ প্যাকেজ ৫,০৯,১৮৫ টাকা উল্লেখ আছে। হিসাব ৩২.৮৫ টাকা প্রতি রিয়াল হারে করা।

হজ ২০২৬ নিবন্ধন কিভাবে করব e-Hajj / Labbaik app দিয়ে?

e-Hajj বা Labbaik app দিয়ে ঘরে বসেই হজ ২০২৬ নিবন্ধন করতে পারবেন। প্রথমে hajj.gov.bd ওয়েবসাইটে e-Hajj সিস্টেমে বা Labbaik মোবাইল অ্যাপে NID দিয়ে প্রোফাইল করুন। এছাড়া ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জেলা কার্যালয়, বায়তুল মোকাররম ও আশকোনা হজ অফিসেও নিবন্ধন করা যায়। নিবন্ধনের সময় প্রাথমিক জমা ৩.৫ লাখ টাকা দিতে হয়।

হজ ২০২৬ রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ কবে?

হজ ২০২৬ এর প্রাথমিক নিবন্ধনের শেষ সময় ১২ অক্টোবর ২০২৫। এই তারিখের মধ্যে ৩.৫ লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। চূড়ান্ত অর্থ পরিশোধের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫। এরপর ৯ নভেম্বর চুক্তি স্বাক্ষর, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বাড়ি ও পরিবহন চুক্তি এবং ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হবে।

হজের বিমান ভাড়া ২০২৬ কত টাকা?

হজের বিমান ভাড়া ২০২৬ সালে নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৫৪,৮৩০ টাকা। ২০২৫ সালে ভাড়া ছিল ১,৬৭,৮২০ টাকা, সেপ্টেম্বর ২০২৫ এ তা প্রায় ১৩ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। এই ভাড়া সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪,৬৭,১৬৭ টাকার মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্স হজ ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

হজ প্যাকেজে কোরবানি ও খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত কিনা?

সরকারি সর্বনিম্ন প্যাকেজ ৪,৬৭,১৬৭ টাকায় কোরবানি অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ জুন ২০২৬ সংসদে এটি নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে বেসরকারি HAAB প্যাকেজে খাবার খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে। তাই সরকারি প্যাকেজে গেলে মক্কা-মদিনায় দৈনিক খাবারের জন্য আলাদা বাজেট রাখতে হবে।

১২ বছরের নিচে বা ৭০ বছরের উপরে হজে যাওয়া যাবে কিনা?

১২ বছরের নিচে কেউ ২০২৬ সালে হজে যেতে পারবেন না। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হজযাত্রীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এবং ১২ বছরের ঊর্ধ্বে হতে হবে। ৭০ বা ৮০ বছরের বেশি বয়সী কেউ যেতে চাইলে ৫০ বছরের কম বয়সী একজন সঙ্গী বাধ্যতামূলক। সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও হজে যেতে পারবেন না।

হজ ২০২৬ এর ফ্লাইট কবে শুরু হবে?

হজ ২০২৬ এর ফ্লাইট শুরু হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে। ভিসা ইস্যু শুরু হবে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ২০২৬ সালের হজ অনুষ্ঠিত হবে ২৬ মে ২০২৬, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে। সৌদি আরব ২০২৬ সালে বাংলাদেশকে ১,২৭,১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে। ফ্লাইট শুরুর আগেই বাড়ি ভাড়া ও পরিবহন চুক্তি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এর মধ্যে সম্পন্ন হবে।

হজের টাকা কিস্তিতে বা কয় ধাপে জমা দিতে হয়?

হজের টাকা মূলত দুই ধাপে জমা দিতে হয়। প্রথম ধাপে প্রাথমিক নিবন্ধন ফি হিসেবে ৩.৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে ১২ অক্টোবর ২০২৫ এর মধ্যে। দ্বিতীয় ধাপে প্যাকেজের বাকি টাকা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। যেমন সর্বনিম্ন প্যাকেজে বাকি থাকবে ১,১৭,১৬৭ টাকা। নির্ধারিত ব্যাংকে বা e-Hajj সিস্টেমে অনলাইনে জমা দেওয়া যায়।

২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে হজের খরচ কত কমেছে?

২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে হজের সর্বনিম্ন খরচ ১১,০৭৫ টাকা কমেছে। ২০২৫ সালে সর্বনিম্ন সরকারি প্যাকেজ ছিল ৪,৭৮,২৪২ টাকা, ২০২৬ সালে তা ৪,৬৭,১৬৭ টাকা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ১৭ জুন ২০২৬ এর বক্তব্য অনুযায়ী বিমান ভাড়া কমানো এবং অন্যান্য ব্যয় সমন্বয়ের কারণে এই হ্রাস হয়েছে। ২০২৫ সালে কোটা পূরণ না হওয়ায় সরকার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয়।

হজ ২০২৬ এর জন্য কী কী কাগজপত্র লাগবে?

হজ ২০২৬ এর জন্য বৈধ পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), এবং e-Hajj নিবন্ধন স্লিপ প্রধান কাগজপত্র। পাসপোর্টের মেয়াদ হজের পরেও কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে। এছাড়া মেডিকেল সার্টিফিকেট, মেনিনজাইটিস টিকার কার্ড, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এবং ব্যাংকে টাকা জমার রশিদ লাগবে। Labbaik app বা hajj.gov.bd তে আপলোডের জন্য পাসপোর্ট সাইজ ছবিও প্রয়োজন হবে।